মোঃ মনিরুল ইসলাম নাচোলঃ চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোল পৌরসভার বাস্ট্যান্ড মোড়ে নির্মিত ট্রাফিক আইল্যান্ডকে বঙ্গবন্ধু চত্বর হিসাবে উদ্বোধণ করায় সমালোচনার মুখে পড়েছে নাচোল পৌর মেয়র আব্দুর রশিদ খাঁন ঝালু। বঙ্গবন্ধুর নাম নিয়ে তামাশা করায় নাচোল পৌর মেয়র ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন নাচোল মানবিক উন্নয়ন সোসাইটি(এনমাস) কে এর তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে উপজেলা আওয়ামীলীগ পরিবারসহ অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। সংশ্লিষ্ঠ সুত্রে জানাগেছে, গত ২০১৬ সালের ৮আগষ্ট জেলা পরিষদের অর্থায়নে নাচোল পৌরসভায় বাসস্ট্যান্ড চত্বের ট্রাফিক আইল্যান্ডের উদ্বোধন করেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ -২আসনের (সাবেক) সাংসদ মুহা: গোলাম মোস্তফা বিশ্বাস ও নাচোল উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কাদের। জেলা পরিষদের অর্থায়নে নাচোল পৌরসভায় বাসস্ট্যান্ড চত্বের নির্মিত ট্রাফিক আইল্যান্ডটিতে দাঁড়িয়ে ট্রাফিক সদস্যরা পথচারী পারাপারে সেবা প্রদান করে আসছে। জেলা পরিষদ কর্তৃপক্ষকে না জানিয়ে হঠাৎ করেই গত মঙ্গলবার রাতে বাসস্ট্যান্ড চত্বের নির্মিত ট্রাফিক আইল্যান্ডটিতে নাচোল পৌর মেয়রের নির্দেশক্রমে রং করণের কাজ শুরু করে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন এনমাসের সদস্যরা। পরে বুধবার বিকালে নির্মিত ট্রাফিক আইল্যান্ডটিকে তড়িঘড়ি করে পৌরসভার আয়োজনে বঙ্গবন্ধু চত্বর হিসাবে উদ্বোধন করেন নাচোল উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাবিহা সুলতানা। এসময় পৌর মেয়র আব্দুর রশিদ খাঁন ঝালু, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন এনমাসের সভাপতি শাকিল রেজাসহ গণমাধ্যম কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

গত বুধবার রাতে এক গণমাধ্যম কর্মীর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম (ফেইস বুকে) নাচোল ট্রাফিক আইল্যান্ডকে বঙ্গবন্ধু চত্বর হিসাবে উদ্বোধনের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে একটি পোষ্ট করলে সেটি ফেইসবুকে ভাইরাল হয়। সেখানে এধরনের কর্মকান্ডের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে নানাজন নানা রকম মন্তব্য করেন। বিষয়টি নিয়ে রাতে সমালোচনার ঝড় উঠে, উপজেলার সচেতন মহলে এবং বঙ্গবন্ধুর সৈনিকদের মধ্যে। তীব্র সমালোচনার মুখে গতকাল বুধবার গভীর রাতেই ট্রাফিক আইল্যান্ডের নিচে বঙ্গবন্ধু নাম সম্বলিত ও জাতীয় পতাকা সদৃশ্য চত্বর লেখাটি মুছে ফেলেছে পৌর কর্তৃপক্ষ। এ বিষয়ে এনমাসের সভাপতি শাকিল রেজার সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান,‘‘আমি নাচোল উপজেলা চেয়ারম্যান, ইউএনও, মেয়র এবং ওসিকে বিষয়টি জানিয়ে কাজটি করেছি। পরবর্তীতে সোসাল মিডিয়ায় সমালোচনা শুরু হলে সেটি রাতে মুছে ফেলা হয়।’’ এ বিষয়ে নাচোল উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাবিহা সুলতানার সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান‘‘,ট্রাফিক আইল্যান্ডটি যে আগে উদ্বোধন করা হয়েছে, সেটি আমি জানতাম না। আমি বিষয়টি পরে জানতে পেরে তাৎক্ষনিক ভাবে বঙ্গবন্ধু চত্বর লেখাটি মুছে ফেলতে নির্দেশ প্রদান করি। একই বিষয় বারবার উদ্বোধন করা যাইনা।

’’ এ বিষয়ে নাচোল উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ নাচোল উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কাদের এসব কর্মকান্ডের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন,‘‘বঙ্গবন্ধু নামটি কোন তামাশার খেলাঘর না। বঙ্গবন্ধু আমাদের সারা বিশ্বের নেতা। ট্রাফিক আইল্যান্ডের পায়ের নিচে বঙ্গবন্ধু চত্বর নাম লিখে সেটির উপরে দাঁড়িয়ে থাকবেন তা হবেনা। বঙ্গবন্ধু চত্বেরর নিদৃষ্ট আকার ও আয়তন রয়েছে। আমরা সেই মাপ অনুযায়ী বঙ্গবন্ধু চত্বর নির্মান করবো। ভবিষ্যতে এ ধরনের কর্মকান্ড থেকে বিরত থাকতে সকলকে তিনি অনুরোধ করেন।’’ এ বিষয়ে উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার (সাবেক) মতিউর রহমান জানান, ‘‘গতকাল বুধবার দুপুরে আমি বাসস্ট্যান্ডে গিয়ে দেখি নির্মিত ট্রাফিক আইল্যান্ডটিকে রং করে নিচে বঙ্গবন্ধু চত্বর নাম লেখা রয়েছে। সেই চত্বরে বঙ্গবন্ধুর নামের উপরে একজন ছেলে দাঁড়িয়েছে। পরে আমি বিষয়টি মেয়র এবং ইউএনও কে অবহিত করি। বঙ্গবন্ধু আমাদের মাথার উপরে থাকবে। বঙ্গবন্ধুর নাম ব্যবহার করে এসব ন্যাক্কার জনক কর্মকান্ডের আমি তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি। এটি আমাদের জন্য লজ্জাজনক ঘটনা।’’ এ বিষয়ে নাচোল বঙ্গবন্ধু পরিষদের সভাপতি প্রভাষক মসিউর রহমান বাবু জানান, ‘‘বঙ্গবন্ধুর নাম নিয়ে গতকাল নাচোলে যে ট্রাফিক আইল্যান্ডকে বঙ্গবন্ধু চত্বর হিসাবে উদ্বোধন করা হয়েছে আমি এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। বঙ্গবন্ধু আমাদের জাতির পিতা,তিনি আমাদের মহান নেতা । বঙ্গবন্ধুর নাম নাম ব্যবহার করে তাঁকে অপমান করা হয়েছে। এটি একটি ন্যাক্কার জনক কান্ড। এদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত বলে আমি মনে করি।’’

কমেন্ট করুন