কপোত নবী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ : লোভের আগুনে জ্বলছে বাবুডাইং। ধ্বংস হচ্ছে জীববৈচিত্রের আধাঁর। কিছু ভূমি দস্যুর লোভের আগুনে জ্বলছে বাবু ডাইং। বাবুডাইং’র বিভিন্ন টিলা থেকে কেটে নিয়ে যাচ্ছে ঝোপ-জঙ্গলের গাছ। আবার কেউ বিভিন্ন ফসল চাষাবাদের জন্য আগুন জ্বালিয়ে ঝোপ-জঙ্গল পরিষ্কার করছে ।

সেভ দ্য নেচার ফেসবুক পেজ থেকে জানা গেছে, সোমবার বিঘার পর বিঘা জমিতে জ্বলছিল আগুন। আতঙ্কে বিভিন্ন পাখি ছোটাছুটি করছিল। পুরো এলাকায় আগুনের তাপ আর ধোঁয়ায় প্রাণ যায় যায় অবস্থা। ঝোপ-জঙ্গল এভাবে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হচ্ছে প্রাণিকূলের আবাসস্থল, হারিয়ে যাচ্ছে নানা প্রজাতির উদ্ভিদ। এ ছাড়া ধোঁয়ায় সৃষ্টি হচ্ছে বায়ুদূষণ।

বাবুডাইং-এ ঢুকতেই বামদিকের পুকুর দু’টিকে তাঁরের বেড়া দিয়ে ঘিরে দেয়া হয়েছে। কেটে ফেলা হয়েছে বেশ কিছু গাছ। কৃষিজীবীরা নিজেদের জমির পরিমাণ বাড়িয়ে নেয়ার এই ধরনের কাজ করছে।

কৃষিজীবীরা তাদের নিজেদের জমি ঘিরতে গাছ কেটে ব্যাবহার করছে খুঁটি। পিয়ারা চাষীরা ফেলে রেখেছে শত শত পলিথিন। এ ভাবে ঐ এলাকায় হীন স্বার্থে ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়ে আজ বাবুডাইং এর অস্তিত্বকে বিপন্ন করা হচ্ছে। ধ্বংস করা হচ্ছে প্রাকৃতিক পরিবেশ।

আশু প্রয়োজন এদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা।স্বেচ্ছাসেবি সংগঠন সেভ দ্য নেচার এটি রক্ষার আপ্রাণ চেষ্টা করছে । সবাই সোচ্চার হলে হয়তো এটি রক্ষা করা যাবে। জেলার অন্যতম জীববৈচিত্র্যের সম্ভার এটি। এই স্থানটিতে আছে বিলুপ্ত প্রায় পাখি, প্রাণি ও নানা প্রজাতির উদ্ভিদ। যা জেলার অন্য কোথাও নাই।

এভাবে চলতে থাকলে আগামী ২/৩ বছরের মধ্যে আমরা হারাবো এই জীববৈচিত্র্যের সম্ভারকে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জের ‘বাবুডাইং’ জেলার মধ্যে ভূ-প্রকৃতিগত কারণে সম্পূর্ণ ভিন্ন ধরণের এলাকা। এখানে রয়েছে ছোট-বড় বেশ কিছু টিলা ও একটি খাড়ি (প্রাকৃতিক জলাধার)। এছাড়া পুকুরও রয়েছে। এলাকাটি জীববৈচিত্রের আধাঁর।

কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয়, বাবুডাইং-এর পূর্বদিকের ডাইংগুলোতে কয়েক বছর আগে গাছ থাকলেও বর্তমানে কোনো গাছ নেই। ক্রমশঃ ডাইং দখল হয়ে বাবুডাইং’র প্রাকৃতিক পরিবেশ সংকুচিত হয়ে যাচ্ছে। পরিবেশের ভারসাম্য তথা জীববৈচিত্র ধ্বংস করছে। বাস্তুতন্ত্র ধ্বংস হওয়ার কারণে কমছে পাখি-প্রাণি ও উদ্ভিদ। কাজেই সমাজের সূধী মহলসহ সকলে জেলা প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন যাতে বাবুডাইং এর সকল সমস্যার সমাধান হয়।

কমেন্ট করুন