মুনিরুল ইসলাম,নাচোল (চাঁপাইনবাবগঞ্জ) প্রতিনিধিঃ চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোলে গ্রাহকের আনুমানিক ৭ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিয়ে “বাংলাদেশ গ্রামীন উন্নয়ন সোসাইটি” নামের এনজিও উধাও হয়ে গেছে। খবর পেয়ে ভুক্তভোগী গ্রাহকরা‘ বাংলাদেশ গ্রামীন উন্নয়ন সোসাইটি’ নামের এনজিও অফিসের মালামাল ভাগাভাগি নিয়ে টানাটানি শুরু করে ভুক্তভোগি গ্রাহকরা। আজ সোমবার দুপুরে উপজেলার কসবা ইউনিয়নের এলাইপুর বাজারে বাংলাদেশ গ্রামীন উন্নয়ন সোসাইটির কার্যালয়ের সামনে এ ঘটনা ঘটে।

গ্রাহক শ্রীপতি কর্মকার বলেন, ‘বাংলাদেশ গ্রামীন উন্নয়ন সোসাইটি’ নামের একটি এনজিও কসবা ইউনিয়নের এলাইপুর বাজারে একটি অফিস ভাড়া নিয়ে প্রায় ৬ মাস ধরে ঋনদান ও সঞ্চয় সংগ্রহ কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছিলো। তারা আমাদের এলাকায় গিয়ে ঋণ দিবে বলে জনপ্রতি ৭৫০০, ৫০০০, ৩০০০ সঞ্চয়ের টাকা নিয়েছে। ৪ মাস পূর্বে এই এনজিওর মালিক এক লক্ষ টাকায় বছরে আমাকে ২৪ হাজার টাকা লাভ দিব বলে আমার কাছে থেকে এক লক্ষ টাকা সঞ্চয় হিসাবে নিয়ে তাদের এনজিওর সদস্য বানায়। গত এক সপ্তাহ ধরে আমি তাদের অফিসে সঞ্চয়ের টাকা আনতে গিয়ে দেখি যে,তাদের অফিসে তালা মারা আছে। পরে আমি এনজিওর মালিক নাইম কে ফোন দিলে মালিকের ফোন নম্বরটি বন্ধ দেখায়। কয়েকদিন পর লোক মুখে শুনতে পাই যে এনজিওটি পালিয়ে গেছে। আমি সোমবার দুপুরে সেই অফিসের মালামাল নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে অন্য গ্রাকরা মালামাল ভাগাভাগি নিয়ে আমাদের মধ্যে হট্রগোল বাধে।
গ্রাহক মিলি খাতুন ,ফারুক বলেন,দুই মাস পূর্বে ‘বাংলাদেশ গ্রামীন উন্নয়ন সোসাইট’ নামের একটি এনজিওর মালিক নাইম ইসলাম আমাদের অল্প সুদে মোটা অংকের লোন দিবে বলে জানায়। সেই এনজিওর মালিকের কথামত সঞ্চয় হিসাবে ‘বাংলাদেশ গ্রামীন উন্নয়ন সোসাইটি’ নামের একটি এনজি তে আমরা দুজনে ৪০ হাজার করে মোট ৮০ হাজার টাকা সঞ্চয় জমা রাখি। এক সপ্তাহ পূর্বে আমাদের লেঅন দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সেইদিন অফিসে গিয়ে দেখি যে অফিসটি তালাবদ্ধ। পরে আমরা খোঁজ নিয়ে জানতে পারি যে, ‘বাংলাদেশ গ্রামীন উন্নয়ন সোসাইটি’ নামের এনজিওটি গ্রাহকের প্রায় ৭ থেকে ৮ লক্ষ টাকা নিয়ে লাপাত্তা হয়েছে। সোমবার দুপুরে অফিসের তালা ভেঙ্গে মালামাল নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে অন্য গ্রাহকরাও তাদের সঞ্চয়ের টাকার বিনিময়ে সেই মালামাল ভাগাভাগি নিয়ে আমাদের সাথে হট্রগোল বাধে। প্রতারকদেরকে সনাক্ত করে ভুক্তভোগী গ্রাহকদের কষ্টের টাকা ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য প্রশাসনের কাছে জোর দাবী জানাচ্ছি আমরা। উল্লেখ্য যে, নাচোলে সমাজ সেবার নিববন্ধন নিয়ে এমআরএ ছাড়াই নিয়মনীতির কোন তোয়াক্কা না করে দেদারসে প্রায় ৮০টি এনজিও উচ্চ হারে সুদের রমরমা ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে।
বাংলাদেশ গ্রামীন উন্নয়ন সোসাইটির এনজিওর মালিক নাইম ইসলামের সাথে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তাঁর ব্যবহৃত ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।
এ বিষয়ে নাচোল মানবাধিকারের সাধারণ সম্পাদক হেলাল জানান,এই এলাকায় আমার বাসা। প্রায় ৬ মাস ধরে ‘বাংলাদেশ গ্রামীন উন্নয়ন সোসাইটি’ নামের একটি এনজিও এলাইপুর বাজারে তাদের ঋনদান ও সঞ্চয় কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছিলো ।আজকে ( সোমবার) দুপুরে দেখি অফিসের সামনে গ্রাহকরা মালামাল ভাগাভাগি নিয়ে টানাটানি করছে।

এ বিষয়ে নাচোল উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাবিহা সুলতানার সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান,কোন এনজিও এমআরএ ছাড়া এই উপজেলায় ঋনদান কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবে না। সকল এনজিওর মালিককে এমআরএ লাইসেন্স জমা দিতে বলা হয়েছে। কথিত এনজিওর বিরুদ্ধে খুব শীঘ্রই অভিযান পরিচালনা করা হবে।

 

কমেন্ট করুন