স্টাফ রির্পোটাঃ সরকার এ বছর ধান স্বচ্ছ ভাবে ক্রয় করার সিদ্ধান্ত নেয়। এ লক্ষে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষে উপজেলা নির্বাহী অফিসার উপজেলার ৪টি ইউনিয়নে কৃষি ওসিএলএসডি এবং ইউপি চেয়ারম্যান মেম্বার কৃষকদের উপস্থিতিতে লটারী করে লক্ষমাত্রা অনুযায়ী কৃষক নির্বচান করেন। এরই ধারাবাহিকতায় লটারীতে নির্বাচিত কৃষকেরা যথানিয়মে উপজেলা সরকারী খাদ্যগুদামে ধান বিক্রয় করে আসছেন। গত ১৪ জানুয়ারী উপজেলার গোহালবাড়ী ইউনিয়নের লটারীতে নির্বাচিত বীরশ^রপুর গ্রামের সেরাজুদ্দিনের ছেলে নুরুল হক খাদ্যগুদামে ধান বিক্রয় করতে গেলে উপজেলা পরিষদের মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান শাহানাজ খাতুন বিকেল সোয়া ৪টার দিকে অবৈধ অনুপ্রবেশ করে ধান বিক্রয়ে বাধা দেন। সেখানে প্রবেশ করে তিনি আইন বিরোধী আচরণ করেন সংশ্লিষ্ট খাদ্য গুদাম কর্তৃপক্ষের সাথে এবং সংরক্ষিত এলাকার আইন ভঙ্গ করে তার মোবাইলে বেশ কিছু গুরুপূর্ণ স্থাপনার ভিডিও ধারন করেন। এ ঘটনায় মহিলা ভাইস চেয়ারম্যানকে খাদ্যগুদাম কর্তৃপক্ষ বার বার বুঝানোর চেষ্টা করে ব্যর্থ হলে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের সহায়তা চান। পরে তাকে খাদ্যগুদাম থেকে বের হওয়ার অনুরোধ করলেও বের হননি। বিষয়টি পরর্বর্তীতে আবারও খাদ্যগুদাম কর্তৃপক্ষ উপজেলা নির্বাহী অফিসার রাজিবুল আলমকে জানানোর পর খাদ্যগুদামের মূল দরজা বন্ধ করে অবরুদ্ধ করে রাখেন। বিষয়টি আইন বিরোধী হওয়ায় দ্রুত উপজেলা নির্বাহী অফিসার রাজিবুল আলম ও উপজেলা চেয়ারম্যান রাব্বুল হোসেন ঘটনাস্থলে আসেন। ঘটনাস্থলে এসে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ঘটনার পৃথক পৃথক ভাবে খাদ্যগুদামের ওসি এলএসডি, অফিস সহায়ক, লেবার সর্দার ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যানের জবানবন্দি লিখিত ভাবে গ্রহণ করেন। লিখিত জবানবন্দিতে মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান ধান ক্রয়ে বাধা ও সংরক্ষিত স্থাপনার ভিডিও ধারণের কথা স্বীকার করেন। এদিকে ওসি এলএসডি সামিরুল ইসলাম তার লিখিত জবানবন্দিতে বলেন, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান এর পূর্বে আরো দু’বার খাদ্যগুদামে এসে খারাপ আচরণ করে গেছেন। এ সময় উপজেলা নির্বাহী অফিসার মহিলা ভাইস চেয়ারম্যানের ধারন করা ভিডিও নিজ সংরক্ষনে নেন এবং ওসি এলএসডিকে মহিলা ভাইস চেয়ারম্যানের আইন বিরোধী কর্মকান্ডের জন্য তার বিরুদ্ধে থানায় জিডি করার নির্দেশ প্রদান করেন। উল্লেখ্য বিকেল সাড়ে ৪টা থেকে রাত সাড়ে ৭টা পর্যন্ত মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান খাদ্যগুদামে অবরুদ্ধ থাকার পর মুক্ত হন।

কমেন্ট করুন