দিল্লিতে চলন্ত বাসে এক মেডিকেলছাত্রীকে ধর্ষণ ও হত্যার দায়ে চার ধর্ষকের ফাঁসির আদেশ আদেশ দিয়েছেন ভারতের আদালত।

আগামী ২২ জানুয়ারি স্থানীয় সময় সকাল ৭টায় তাদের ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আদেশ দিয়েছেন অতিরিক্ত দায়রা বিচারক সতীশকুমার অরোরা।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত চার আসামি- অক্ষয় ঠাকুর, বিনয় শর্মা, পবন গুপ্তা ও মুকেশ সিং।

আনন্দবাজার পত্রিকা প্রতিবেদনে জানায়, ২০১২ সালের ১৬ ডিসেম্বর রাতে দিল্লিতে একটি চলন্ত বাসে নির্ভয়াকে গণধর্ষণ, ভয়াবহ মারধর এবং যৌন অত্যাচার করে রাস্তায় ছুড়ে ফেলে দেয় ৬ জন। নির্ভয়ার প্রেমিককেও মারধর করে রাস্তায় ফেলে দেওয়া হয়। এরপর ২৮ ডিসেম্বর সিঙ্গাপুরের মাউন্ট এলিজ়াবেথ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান নির্ভয়া।

ঘটনার এক বছরের মধ্যে অভিযুক্তদের মৃত্যুদণ্ড দেয় দিল্লির দায়রা আদালত। ২০১৪ সালে দিল্লি হাইকোর্ট সেই রায় বহাল রাখে। ২০১৭ সালের মে মাসে সেই রায় বহাল রাখে শীর্ষ আদালত। দায়রা আদালতের রায় প্রকাশের আগেই তিহাড় জেলে আত্মহত্যা করে আসামি রাম সিংহ।

আনন্দবাজার পত্রিকা আরও জানায়, ফাঁসির দড়ি আনা হয়েছে বিহারের বক্সার জেল থেকে। আর মৃত্যুদণ্ডাদেশপ্রাপ্ত আসামিরা আগামী ১৪ দিনের মধ্যে উচ্চতর আদালতে শেষবারের মতো রিভিউর আর্জি জানাতে পারবেন।

এছাড়া অপ্রাপ্তবয়স্ক (১৭) এক আসামিকে সংশোধনকেন্দ্রে রাখার পর ২০১৫ সালে মুক্তি দেয় আদালত। আইন অনুযায়ী সেটাই ছিল অপ্রাপ্তবয়স্কদের জন্য সর্বোচ্চ সাজা।

এদিকে এই রায়কে স্বাগত জানিয়েছে ভারতের সব রাজনৈতিক দলই। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী প্রকাশ জাভড়েকর বলেন, এই রায়ে বিচারব্যবস্থার উপরে মানুষের আস্থা বাড়বে।

দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরীবালের বলেন, আদালতের এই সিদ্ধান্তে দিল্লিবাসীর বহু দিনের ইচ্ছে পূরণ হল। আশা করি, যারা মহিলাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করে তারা এ থেকে শিক্ষা নেবে।

প্রসঙ্গত, ২০১২ সালের ১৬ ডিসেম্বর রাতে সিনেমা দেখে বন্ধুর সঙ্গে ফেরার সময় চলন্ত বাসে ধর্ষণের শিকার হন ওই প্যারামেডিকেল ছাত্রী। ছয় পাষণ্ড ধর্ষণের আগে তার বন্ধুকে পিটিয়ে হাত-পা বেঁধে ফেলে রাখে। পরে তাদের দু’জনকেই চলন্ত বাস থেকে ফেলা দেয়। প্রায় ২ সপ্তাহ পর ২৮ ডিসেম্বর মারাত্মক আহত ওই ছাত্রী সিঙ্গাপুরের মাউন্ট এলিজ়াবেথ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। এই ঘটনায় ভারতে বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে ওঠে।

কমেন্ট করুন