গেল কয়েক বছরের অর্থনীতির গতি ২০১৯ সালে থমকে গেছে।

গত কয়েক বছরের অর্থনীতির দুরন্ত গতি ২০১৯ এ এসে কিছুটা থমকে গেছে। সন্তুষ্টি ছিলো শুধু প্রবাসী আয়ে। রপ্তানি আয়, পুঁজিবাজার, নিত্য পণ্যের বাজার দর- অস্বস্তি ছিলো সবকিছুতেই। অর্থনীতিবিদরা বলছেন, জানুয়ারিতে মধ্য মেয়াদী বিশ্লেষণ করে, নতুন বছরে হারানো গতি ফিরে পাওয়ার উপায় খুঁজে বের করতে হবে নীতিনির্ধারকদের।

তিন মাস আগেই অর্ধলক্ষ টাকার লোকসান গুনেছেন। শীত মৌসুমেও লক্ষণ ভালো না। চাষের খরচটা কোনমতেই উঠলেই খুশি কৃষক মো. আউয়াল। আউয়ালের মতো অন্য কৃষকদেরও আশা চাষের খরচটা কোনরকমে উঠলেই হয়।

ভালো নেই শহুরে প্রান্তিক মানুষরাও। কুয়াশা মোড়ানো সূর্যবিহীন সকালের মতোই নিরুত্তাপ জীবন। নতুন বছরের প্রথম দিন তাদের কাছে হাজির হয় অর্থনীতির মূল স্রোতে থাকা মানুষের উৎসব হিসেবে। সেই উৎসবের ছিটেফোটা প্রভাবে যদি বিক্রি বাড়ে, তাতেই খুশি তারা।

দুর্দান্ত সম্ভাবনা দিয়ে শুরু হয়েছিলো ২০১৯। কিন্তু শেষ দিকে ক্রমশ ফ্যাকাশে দেশের অর্থনীতি। প্রবাসী আয় ছাড়া বাদবাকী সব সূচকই নিম্নমুখী। বড় চ্যালেঞ্জ পুঁজিবাজার, রপ্তানি, আর ব্যাংকিং খাত।

অর্থনীতিবিদ ড. নাজনীন আহমেদ বলেন, ‘চ্যালেঞ্জগুলো নতুন না, কিন্তু পুরোনো চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আমি কতদূর এগিয়েছি এটার একটা মধ্য মেয়াদী বিশ্লেষণ করা হয়। এটাতে দেখা যায় আমি কতদূর এগিয়েছি। তাহলে বাকী অর্ধেক শেষ করতে আমাকে কি গতিতে দৌড়াতে হবে।’

চার বছর আগে বিশ্ব অর্থনীতিবিদরা পূর্বাভাস দিয়েছিলেন ২০১৯ সালে সারা পৃথিবীতে জিডিপি প্রবৃদ্ধিহারের দিক দিয়ে দ্বিতীয় শীর্ষ অবস্থানে থাকবে বাংলাদেশ। আর ২০১৯ এ এসে ‘দ্য স্পেক্টেটর ইনডেক্স’ বলছে গত ১০ বছরে জিডিপির চলতি বাজার মূল্যের প্রবৃদ্ধিহারে সবার উপরে আছে বাংলাদেশ। অর্থাৎ বাংলাদেশের অর্থনীতি এখন ভিষণ গতিশীল। কিন্তু,  অর্থনীতিবিদরা বলছেন গত কয়েকবছরের মধ্যে এখনই সবচেয়ে চ্যালেঞ্জিং সময় পার করছে দেশের অর্থনীতি। কেননা অভ্যন্তরীণ কিংবা আন্তর্জাতিক বাজার কোনোটাতেই স্বস্তি নেই। তারপরেও অর্থনীতিবিদরা আশা করছেন নতুন বছরে নতুন উদ্যম কিছুটা হলেও চাঙা করবে দেশের অর্থনীতি।

কমেন্ট করুন