১০ ডিসেম্বর বিশ্ব মানবাধিকার দিবস উপলক্ষ্যে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান আজ ৯ ডিসেম্বর প্রদত্ত এক বিবৃতিতে বলেন, “১০ ডিসেম্বর সারা বিশ্বে ঘটা করে বিশ্ব মানবাধিকার দিবস পালন করা হলেও বাংলাদেশসহ সারা বিশ্বেই মানবাধিকার চরমভাবে লংঘিত হচ্ছে।

সারা বিশ্বে এমন এক সময় মানবাধিকার দিবস পালিত হচ্ছে যখন বাংলাদেশে রাষ্ট্রীয় পৃষ্টপোষকতায় চলছে বিচারবহির্ভূত হত্যা, গুম, খুন, সন্ত্রাস, নারী ও শিশু ধর্ষণ, নির্যাতন, ঘুষ-দুর্নীতিসহ মানবাধিকার লংঘনের মচ্ছব। বাংলাদেশের মানুষ আজ তাদের ভোটাধিকার, মত প্রকাশের স্বাধীনতা, সভা-সমাবেশ করা ও স্বাধীনভাবে রাজনীতি করার অধিকার থেকে চরমভাবে বঞ্চিত। এক কথায় দেশে মানুষের জানমাল ও ইজ্জত-আব্রুর কোনো

মিয়ানমার থেকে সে দেশের সরকার নাগরিকত্ব থেকে বঞ্চিত করে বাড়ি-ঘর জ্বালিয়ে দিয়ে গণহত্যা চালিয়ে ১১ লক্ষ রোহিঙ্গা মুসলমানদের বাংলাদেশে জোরপূর্বক ঠেলে দিয়েছে। তারা আজ মানবেতর জীবন-যাপন করছে। আফগানিস্তান, ফিলিস্তিন, কাশ্মীর, ইরাক, সিরিয়া, লেবানন, ইয়ামেন, চীনের ঝিনঝিয়াং প্রদেশে উইঘুর মুসলিমদের উপর চলছে নির্যাতন ও গণহত্যা। ঐ সব দেশে অভ্যন্তরীণ এবং বিদেশী আগ্রাসন, সামরিক হামলা ও মানবাধিকার লংঘন বন্ধ করার কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করার জন্য ওআইস এবং জাতিসংঘসহ সকল শান্তিকামী দেশ ও আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতি আমি উদাত্ত আহবান জানাচ্ছি।

বিশ্বের কোথাও শান্তি নেই। সারা বিশ্বে চলছে অশান্তির সয়লাব। ঝঞ্ঝা বিক্ষুব্ধ বিশ্বে ইসলামই পারে মানুষের মানবাধিকার সমুন্নত করে সারা বিশ্বে মানবাধিকার ও শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে। বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মাদ (সা.) মদিনায় তার প্রতিষ্ঠিত ইসলামী রাষ্ট্রে মানবাধিকার প্রতিষ্ঠা করে যে দৃষ্টান্ত স্থাপন করে গিয়েছেন তা সারা বিশ্বের মানুষের জন্য এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে চিরদিন টিকে থাকবে। রাসূল (সা.) ও তার ৪ খলিফা মদিনা সনদ বাস্তবায়ন করে তাদের শাসনামলে আরব বিশ্বে মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার যে উদাহরণ সৃষ্টি করে গিয়েছেন তা চিরদিন মানবজাতি শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করবে।

তাই ইসলামী আদর্শের আলোকে বাংলাদেশসহ সারা বিশ্বে মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকারের মাধ্যমে যথাযথ মর্যাদায় দিবসটি পালন করার জন্য আমি সকলের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।” প্রেস রিলিজ।

কমেন্ট করুন