আলি হায়দারঃ নিজের খরচের জোগান নিজেই করতে চান। তিনি তাঁর পরিবারের বোঝা হয়ে থাকতে চান না। বেকারত্বহীন ভবিষ্যৎ গড়তে চান। এ জন্য তিনি পাতি হাঁসের খামার করেছেন। বাড়ি ভোলাহাট উপজেলার সুরানপুর গ্রামের আলহাজ্ব আফজাল হোসেনের ছেলে। স্বপ্ন দেখছেন স্বাবলম্বী হওয়ার।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা শহর থেকে প্রায় ৮০ কিলোমিটার দূরে সীমান্তবর্তী উপজেলা ভোলাহাট। উপজেলা প্রধাণ আয়ের উৎস আম ও ধান। প্রধাণ কাজ কৃষি। অধিকাংশ মানুষ কৃষিকাজ করে জীবিকা নির্বাহ করেন। উপজেলার নিন্মাঞ্চল বিলভাতিয়া, বাগডোগ্রা, চকচোকা সবুজ মাঠে ধানের আবাদ করা হয়। বছরে কয়েকমাস বর্ষার পানিতে তলিয়ে থাকে। এ সময় কোন ফসল না হওয়ায় কর্মহীন হয়ে পড়ে হাজারো মানুষ। আয়ের বিকল্প উৎস হিসেবে কয়েক বছর ধরে উপজেলার মুনিরুল ইসলাম, হাবিবুর রহমান, রুবেল আলী, রহিম আলীসহ প্রায় ১৭জন বিলভাতিয়ায় গড়ে তুলেছেন ভ্রাম্যমাণ পাতি হাঁসের খামার।
রহনপুর ইফসুফ আলি কলেজ থেকে ম্যানেজমেন্ট বিষয়ে অনার্স পাশ করে গ্রামের একটি প্রাইভেট স্কুল “সুরানপুর নুরানী একাডেমী”তে চাকরি করছেন মাসুদ রানা। ভাল একটা চাকরি পাবেন, তারও কোনো নিশ্চয়তা নেই। এ কারণে নিজে কিছু একটা করার কথা ভাবেন। একটি হাঁসের খামার করবেন বলে সিদ্ধান্ত নেন। সে অনুযায়ী, ২ লক্ষ ১০ হাজার টাকায় প্রথমে ৭শত পাতি হাঁস দিয়ে খামার শুরু করেন, এবং পরে আরো ২শ হাঁস যোগ করে গড়েছেন ৯শত পাতি হাঁসের খামার।
মাসুদ রানা জানান, গ্রামের কয়েকজনের হাঁসের খামার ছিল। তাদের হাঁস পালন করতে দেখছেন। ফলে হাঁস পালনে তাঁর অভিজ্ঞতা হয়েছিল। এই অভিজ্ঞতা থেকেই খামার শুরু করেছেন। তিনি বলেন, আমি প্রথমে ২ লক্ষ ১০ হাজার টাকা দিয়ে ৭শত পাতি হাঁস ক্রয় করি। পরে আরো ২শত ক্রয় করে বর্তমানে আমার ৯শত পাতি হাঁসের খামার। ৯শ পাতি হাসঁ থেকে প্রতিদিন ৫০০ডিম পাই। খরচ বাদ দিয়ে প্রতিদিন আমার আয় হয় ২৫০০টাকা। এতে কর্মসংস্থান হয়েছে অনেক বেকার যুবকের। স্থানীয়ভাবে এসব পাতি হাঁসের মাংসের চেয়ে ডিমের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে বলে জানান তিনি।
মোঃ শহিদুল ইসলাম নামে খামারের এক শ্রমিক জানান, কাজ কর্ম না থাকায় প্রায়ই সময় বেকার থাকতে হত। ফলে সংসারের অভাব অনটন লেগেই থাকত। মাসুদ রানার খামারে কাজ শুরু করার পর এখন পরিবার পরিজন নিয়ে সুখেই আছেন তিনি।
একই গ্রামের ঝাটু শেখের ছেলে মুনিরুল ইসলাম জানায়, আমি ১০ বছর যাবত পাতিহাঁস পালন করে বেশ স্বাবলম্বী হয়েছি, এখান থেকেই আমি ছেলে মেয়েদের রাজশাহীতে লেখাপড়া করাতে পারছি। খামারী হাবিবুর রহমান, রুবেল আলী ও রহিম আলী বলেন, আমরা যদি সরকারিভাবে সহযোগিতা পাই তবে স্থায়ীভাবে খামার গড়ে তুলতে পারবো।
ভোলাহাট উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ মোহাম্মদ আবদুল্লাহ বলেন, হাঁস পালনে খামারীদের প্রযুক্তিগত প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে। উপজেলা প্রানী সম্পদ বিভাগের হিসেবে উপজেলায় ২২টি পাতি হাঁসের খামার আছে। সবগুলোই খামারে ডিম উৎপাদন করা হয়। অনেক খামারী আছে যাদের বারবার আমাদের সাথে যোগাযোগ করার কথা বলা হলেও তারা আমাদের কাছে যোগাযোগ করছেনা ডিলারদের মাধ্যমে ওষুধসহ খাবার নিয়ে খামার করছেন।

কমেন্ট করুন