1. shahalom.socio@gmail.com : admin :
  2. nagorikit@gmail.com : ভোলাহাটচিত্র : ভোলাহাটচিত্র
  3. bholahatchitro@gmail.com : ভোলাহাটচিত্র : ভোলাহাটচিত্র
আজ রবিবার, ১১ এপ্রিল ২০২১, ০১:৫৬ অপরাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ
সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখুন, বিনা প্রয়োজনে বাইরে বের হওয়া থেকে বিরত থাকুন।

ভোলাহাটের ভূয়া মৎস্যজীবি সমিতি বাগিয়ে নিয়েছে সরকারী জলমহল

  • আপডেট করা হয়েছে বুধবার, ২৪ মার্চ, ২০২১
  • ৭৭০ বার পড়া হয়েছে
ফাইল ফটো।

স্টাফ রিপোর্টারঃ জাল যার জলা তার শ্লোগানে প্রকৃত মৎস্যজীবি সমবায় সমিতিকে সরকার নিয়মানুযায়ী জলমহল ইজারা দিয়ে মৎস্যজীবিদের স্বাবলম্বী করার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। প্রকৃত মৎস্যজীবিদের সনাক্ত করতে স্থানীয় ভাবে মৎস্যজীবিদের পরিচয়পত্র প্রদান করা হয়েছে। কিন্তু তারপরও সুবিধা ভোগি একটি অমৎস্যজীবি চক্র প্রভাব বিস্তার করে সরকারী জলমহল ইজারা নিয়ে প্রকৃত মৎস্যজীবিদের বঞ্চিত করছে। এমনি অভিযোগ উঠেছে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার ভোলাহাট উপজেলায়। উপজেলার দলদলী ইউনিয়নের মুসলিমপুর মৎস্যজীবি সমবায় সমিতির কোন সদস্যের মৎস্যজীবি পরিচয়পত্র (এফআইডি) কার্ড নেই। অথচ এ ভূয়া সমিতিটি রহস্যজনক কারণে ১২৪.০৫ একর আয়তনের সরকারী জলমহলটি বাগিয়ে নিয়েছে। এতে প্রকৃত মৎস্যজীবিরা বঞ্চিত হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঊল্লেখি মৎস্যজীবি সমবায় সমিতিটি ভূয়া মর্মে ময়ামারী মোড় মৎস্যজীবি সমবায় সমিতির সভাপতি ফারুক হোসেন ভোলাহাট উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর অভিযোগ করেন। প্রেক্ষীতে উপজেলা নির্বাহী অফিসার উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা কামরুজ্জামান সরদার ও উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা আব্দুল হালিমকে নিয়োগ দিয়ে তদন্ত করার জন্য ২ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করে দেন। তদন্ত কমিটি ১৬ মার্চ ৪৭.৬১.৭০১৮.০০০.৩৭.০০১.১৫-৮৫ নং স্মারকের তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন, মুসলিমপুর মৎস্যজীবি সমবায় সমিতি লিমিটেড সংগঠনটি চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা সমবায় থেকে ২০১৪ সালে নিবন্ধিত হয়। যার রেজিষ্ট্রেশন নং-২৪০ তারিখ ২২জুন ২০১৪। কিন্তু সংগঠনের উপ-আইন অনুযায়ী সমিতির সভ্য নির্বাচনি এলাকা মুসলিমপুর, মুশরিভূজা ও নামোমুশরীভূজা হলেও নিয়ম ভঙ্গ করে সভাপতি নির্বাচিত হয়েছে অন্য এলাকা থেকে। প্রকৃত মৎস্যজীবি মর্মে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নিকট প্রত্যয়নপত্রের জন্য আবেদন করেন কিন্তু তদন্ত কালে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের দেয়া প্রত্যয়নপত্র দেখাতে পারেননি। আবেদনে ও মৎস্যজীবি সমবায় সমিতির তালিকায় দুই জায়গায় দুই রকম ঠিকানা ব্যবহার করেছেন সমিতির সভাপতি আব্দুল আওয়াল। প্রতিবেদনে আরো উল্লেখ আছে প্রকৃত মৎস্যজীবি হিসেবে উপজেলা মৎস্য অফিসে কোন তথ্য পায়নি তদন্ত কমিটি। মৎস্য অফিসের একটি প্রত্যয়নপত্র পাওয়া গেলেও তাতে সিল ব্যবহার করা আছে সত্যায়িতর। ফলে প্রত্যনপত্রটি সন্দেহ করেছেন তদন্ত টিম। তদন্ত টিমকে সমিতির সভাপতি আব্দুল আওয়াল মূল প্রত্যয়নপত্র দেখাতে ব্যর্থ হয়েছেন এবং মোট ২০ জন সদস্যের কারো মৎস্যজীবি পরিচয়পত্র (এফআইপি) নেই বলে উল্লেখ করা হয়েছে তদন্ত প্রতিবেদনে। এদিকে সমিতির সভাপতি আব্দুল আওয়ালের নামে দঃবিঃ ধারায় মামলা রয়েছে। মামলা নং-জিআর ১৩৪ তারিখ ১০ অক্টোবর ২০১৬। সরকারী জলমহল ব্যবস।থাপনা নীতি-২০০৯ এর(৫)(৪)(ছ) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী মৎস্যজীবি সমবায় সমিতিকে যাচাই-বাছাই করে পূর্বের ইজারাকৃত জলমহলের মূল্য পরিশোধে খেলাপি, জঙ্গী সম্পৃক্ততা, জলমহল সংক্রান্ত কোন সার্টিফিকেট মামলা কিংবা অন্য কোন মামলা থাকলে সংশ্লিষ্ট সমিতিকে জলমহল ইজারা দেয়া যাবে না। ফলে এ সমিতিটির অনুকুলে সরকারী জলমহল ইজারা বাধা গ্রস্থ হবে। সমিতির আইন ভঙ্গ করে নাম সর্বস্ব সাইন বোর্ডে ব্যবহার ও নিয়মবর্হিভূত ভাবে সভাপতি আব্দুল আওয়ালকে সমিতিতে অর্šÍভূক্ত করায় সমিতিটিকে সমবায় আইন পরিপন্থি ও বালিযোগ্য বলা হয়েছে প্রতিবেদটিতে। তদন্ত প্রতিবেদনে তদন্ত টিম মতামত দিয়ে বলেন, মুসলিমপুর মৎস্যজীবি সমবায় সমিতি লিমিটেড এর সভাপতি ও অন্যান্য সদস্যদের মৎস্যজীবি পরিচয়পত্র(এফআইডি) না থাকায় এবং সংগঠনের নিয়ম বঙ্গ করায় আব্দুল আওয়ালের সভাপতি পদ বাতিল হবে। সভাপতির বিরুদ্ধে মামলা চলমান থাকায় সরকারী জলমহল ব্যবস্থাপনা নীতি-২০০৯ (৫)(৪)(ছ) অনুচ্ছে অনুযায়ী সমিতির সভাপতি কিংবা সমিতির অনুকুলে জলমহল বন্দোবস্ত নীতিমালা পরিপন্থি বলে ইল্লেখ করা হয়।
তদন্ত প্রতিবেদনটি ১৮ মার্চ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মশিউর রহমান অবগতি ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য চাঁপাইনবাবগঞ্চ জেলা প্রশাসক বরাবর প্রেরণ করেছেন।

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন
ডিজাইনঃ নাগরিক আইটি (Nagorikit.com)