1. shahalom.socio@gmail.com : admin :
  2. nagorikit@gmail.com : ভোলাহাটচিত্র : ভোলাহাটচিত্র
  3. bholahatchitro@gmail.com : ভোলাহাটচিত্র : ভোলাহাটচিত্র
আজ সোমবার, ১৪ জুন ২০২১, ০৬:৫৩ পূর্বাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ
সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখুন, বিনা প্রয়োজনে বাইরে বের হওয়া থেকে বিরত থাকুন।

প্রতিবন্ধী সোহেলের জীবন চলে ভিক্ষায়

  • আপডেট করা হয়েছে সোমবার, ১৭ মে, ২০২১
  • ৩০২ বার পড়া হয়েছে

স্টাফ রিপোর্টারঃ ভিক্ষা করতে সরম পায়। মানুষ এক টাকা দিলে হাজারটা কথা শুনাই। শারীরিক প্রতিবন্ধী ৩০ বছর বয়সের সোহেল রানা এ সব কথা বলতে গিয়ে ঢুঁকরে কেঁদে ফেলেন। ভোলাহাট উপজেলার ময়ামারী গ্রামের মৃত আশরাফুলের ছেলে শারীরিক প্রতিবন্ধী সোহেল রানার বাড়ী। উপজেলার মেডিকেল মোড়ে হাত পেতে ভিক্ষা করার সময় এক দোকান মালিক নানা কুটুক্তি করে কথা বলার সময়  আজকের পত্রিকার সাথে তার কথা হয়। সোহেল রানা জানান, আমরা ৩ ভাই ২ বোন। আমি ভাইদের মধ্যে মেজ। আমার জন্ম থেকে ডান হাত আর বুক অবস হয়ে আছে। কোন কাজ করে খেতে পারিনা। ১৬ বছর আগে মা রেন বানু মারা গেছে। ২ বছর আগে বাবা মারা গেছে। ২ বোনের বিয়ে হয়েছে। মা- বাবা মারা যাওয়ার পর ভাইয়েরা পৃথ হয়ে যায়। বাম হাত থাকলেও কাজ করার মত শক্তি নেই। তাই বাধ্য হয়ে ভিক্ষা করতে হয়। ভিক্ষা করতে গিয়ে মানুষ এক টাকা দিলে হাজারটা কথা শুনিয়ে দেয়। প্রতিবন্ধী সোহেল আরো বলেন, বাবা বেঁচে থাকতে  ঈদের সময় ২ বোনের বাড়ী ঈদের বাজার দিয়ে আসতো। মরে যাওয়ার পর বড় ভাই ছোট ভাই কেউ বোনের বাড়ী ঈদের বাজার দেয় না।তাই  ভিক্ষা করে বোনের বাড়ী ঈদের বাজার দিতে এখানে ওখানে ভিক্ষা করি। মানুষ একটা ভিক্ষা দিলে হাজারটা কথা শুনাই। আমি কষ্ট পায় লজ্জা পায়। কিন্তু কি করবো কাজ করতে পারি না বাধ্য হয়েই ভিক্ষা করতে হয়। আর ভিক্ষা করতে ইচ্ছে করছে না। তিনি বলেন, সরকার এতো সাহায্য সহযোগিতা করছে আমি কিছুই পাচ্ছি না। ঈদে সরকার সাড়ে ৪’ শ টাকা ঈদ উপহার দিলেও আমার মত প্রতিবন্ধীকে দেয়নি। এখন পর্যন্ত কোন সরকারী সহযোগিতা কেউ দেয়নি। সোহেল কেঁদে কেঁদে বলেন, সরকার প্রতিবন্ধীদের ভাতা দেয়। কিন্তু আমি টাকা দিতে পারিনি তাই ভাত হয়নি। উপজেলার সমাজসেবা অফিসে আমার প্রতিবন্ধীর কাগজপত্র জমা দিয়েছি। একটা অফিসার টাকা চেয়েছে। টাকা দিতে না পারায় এখন পর্যন্ত ভাতা হয়নি। আর ভিক্ষা করতে চাইনা। লজ্জা লাগে। মানুষ গালমন্দ দেয়। বলে সরকার এতো সাহায্য দিচ্ছে আর তুই ভিক্ষা করছিস আরো কত কি বলে। আমার মরে যাওয়া ভালো বলে প্রতিবন্ধী সোহেল কাঁদতে থাকে। সোহেলের প্রতিবেশী নাজমুল জানান, মা বাবা হারা প্রতিবন্ধী সোহেল কাজ করতে পারে না। তাঁকে কেউ সহযোগিতাও করে না। জন্ম থেকে প্রতিবন্ধী সোহেল বাবা মা বেঁচে থাকার সময় তাদের আয় রোজগারে চলতো। সে সরকারি কোন সহযোগিতা পায়না বলে জানান। আরেক প্রতিবেশী মনিরুল ইসলাম বলেন, ছেলেটা কোন কাজ করতে পারে না। সরকারী কোন সাহায্য পর্যন্ত পায় না। বেঁচে  থাকার জন্য বাধ্য হয়ে ভিক্ষা করতে হয়। সোহেলের বড় ভাই  রাকিবুল ইসলাম জানান, আমরা গরিব মানুষ। দিন আনি দিন খাই। আমারি সংসার ভারি। তাঁকে কি চালাবো। প্রতিবন্ধী ভাইটার নামে সরকারের কোন সাহায্য নেই। আমরা কাজ করে কোন রকম খেয়ে না খেয়ে চলে যাচ্ছি। সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য ও প্যানেল চেয়ারম্যান আব্দুল বারী জানান, আমার জানা মতে সে কোন সরকারী সাহয্য পায়না। সে কখনো আমার কাছে আসেনি। বাইরে বাইরে থাকে ।

 

 

 

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন
ডিজাইনঃ নাগরিক আইটি (Nagorikit.com)