1. shahalom.socio@gmail.com : admin :
  2. nagorikit@gmail.com : ভোলাহাটচিত্র : ভোলাহাটচিত্র
  3. bholahatchitro@gmail.com : ভোলাহাটচিত্র : ভোলাহাটচিত্র
আজ- বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২০, ০৬:৩৬ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
ব্রেকিং নিউজ
সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখুন, বিনা প্রয়োজনে বাইরে বের হওয়া থেকে বিরত থাকুন।

কবি কাজী নজরুল ইসলামের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী

  • আপডেট করা হয়েছে বৃহস্পতিবার, ২৭ আগস্ট, ২০২০
  • ৪০ বার পড়া হয়েছে

 

১৮৯৯ সালের ২৪ মে ( ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ ই জ্যৈষ্ঠ ) ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার আসানসােল মহকুমার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন কাজী নজরুল ইসলাম । চুরুলিয়া গ্রামটি আসানসােল মহকুমার জামুরিয়া থানায় অবস্থিত । পিতামহ কাজী আমিনউল্লাহর পুত্র কাজী ফকির আহমদের দ্বিতীয়া পত্নী জাহেদা খাতুনের ষষ্ঠ সন্তান তিনি । তার বাবা ছিলেন স্থানীয় এক মসজিদের ইমাম । তারা ছিলেন তিন ভাই এবং বােন । তার সহােদর তিন ভাই ও দুই বােনের নাম হল : সবার বড় কাজী সাহেবজান , কনিষ্ঠ কাজী আলী হােসেন , বােন উম্মে কুলসুম । কাজী নজরুল ইসলামের ডাক নাম ছিল দুখু মিয়া । তিনি স্থানীয় মক্তবে ( মসজিদ পরিচালিত মুসলিমদের ধর্মীয় স্কুল ) কুরআন , ইসলাম ধর্ম , দর্শন এবং ইসলামী ধর্মতত্ত্ব অধ্যয়ন শুরু করেন । ১৯০৮ সালে যখন তার বাবা মারা যান তখন তার বয়স মাত্র নয় বছর । মক্তব , মসজিদ ও মাজারের কাজে নজরুল বেশি দিন ছিলেননা । বাল্য বয়সেই লােকশিল্পের প্রতি আকৃষ্ট হয়ে একটি লেটো ( বাংলার রাঢ় অঞ্চলের কবিতা , গান ও নৃত্যের মিশ্র আঙ্গিক চর্চার ভ্রাম্যমান নাট্যদল ) দলে যােগ দেন । তার চাচা কাজী বজলে করিম চুরুলিয়া অঞ্চলের লেটো দলের বিশিষ্ট ওস্তাদ ছিলেন এবং আরবি , ফারসি ও উর্দু ভাষায় তার দখল ছিল । এছাড়া বজলে করিম মিশ্র ভাষায় গান রচনা করতেন ।

১৯১৭ সালের শেষদিকে নজরুল সেনাবাহিনীতে যােগ দেন । প্রথমে কলকাতার ফোর্ট উইলিয়ামে এবং পরবর্তীতে প্রশিক্ষণের জন্য সীমান্ত প্রদেশের নওশেরায় যান । প্রশিক্ষণ শেষে করাচি সেনানিবাসে সৈনিক জীবন কাটাতে শুরু করেন । তিনি সেনাবাহিনীতে ছিলেন ১৯১৭ সালের শেষভাগ থেকে ১৯২০ সালের মার্চ – এপ্রিল পর্যন্ত , অর্থাৎ প্রায় আড়াই বছর । সৈনিক থাকা অবস্থায় তিনি প্রথম বিশ্বযুদ্ধে অংশ নেন । এ সময় নজরুলের বাহিনীর ইরাক যাবার কথা ছিল । কিন্তু যুদ্ধ থেমে যাওয়ায় আর যাননি । ১৯২০ সালে যুদ্ধ শেষ হলে ৪৯ বেঙ্গল রেজিমেন্ট ভেঙে দেয়া হয় । এর পর তিনি সৈনিক জীবন ত্যাগ করে কলকাতায় ফিরে আসেন ।

১৯২২ সালে বিজলী কবিতায় প্রকাশিত হওয়ামাত্রই জাগরণ সৃষ্টি করে।দৃপ্ত বিদ্রোহী মানসিকতা এবং অসাধারণ শব্দবিন্যাস ও ছন্দের জন্য আজও বাঙালী মানসিকতায় কবিতাটি ” চির উন্নত শির ” বিরাজমান ।

বল বীর –
বল উন্নত মম শির !
শির নেহারি আমারি , নত শির ওই শিখর হিমাদ্রির !
বল বীর –
বল মহা বিশ্বের মহাকাশ ফাড়ি ‘ চন্দ্র সূর্য গ্রহ তারা ছাড়ি ‘
ভূলােক দ্যুলােক গােলােক ভেদিয়া , খােদার আসন ‘ আরশ ‘ ছেদিয়া ,
উঠিয়াছি চির বিস্ময় আমি বিশ্ব বিধাত্রীর !
মম ললাটে রুদ্র ভগবান জ্বলে রাজ – রাজটীকা দীপ্ত জয়শ্রীর !
বল বীর
আমি চির উন্নত শির।

যুদ্ধ শেষে কলকাতায় এসে নজরুল ৩২ নং কলেজ স্ট্রিটে বঙ্গীয় মুসলিম সাহিত্য সমিতির অফিসে বসবাস শুরু করেন । তার সাথে থাকতেন এই সমিতির অন্যতম কর্মকর্তা মুজফ্ফর আহমদ । এখান থেকেই তার সাহিত্য – সাংবাদিকতা জীবনের মূল কাজগুলাে শুরু হয় । প্রথম দিকেই মােসলেম ভারত , বঙ্গীয় মুসলমান সাহিত্য পত্রিকা , উপাসনা প্রভৃতি পত্রিকায় তার কিছু লেখা প্রকাশিত হয় । এর মধ্যে রয়েছে উপন্যাস বাঁধন হারা এবং কবিতা বােধন , শাত – ইল – আরব , বাদল প্রাতের শরাব , আগমনী , খেয়া – পারের তরণী , কোরবানি , মােহররম , ফাতেহা – ই দোয়া ।

১৯৪২ সালে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়ে । এতে তিনি বাকশক্তি হারিয়ে ফেলেন । তার অসুস্থতা সম্বন্ধে সুষ্পষ্টরুপে জানা যায় ১৯৪২ সালের জুলাই মাসে ।১৯৪২ সালের শেষের দিকে তিনি মানসিক ভারসাম্যও হারিয়ে ফেলেন । এরপর নজরুল পরিবার ভারতে নিভৃত সময় কাটাতে থাকে । ১৯৫২ সাল পর্যন্ত তারা নিভৃতে ছিলেন । ১৯৫২ সালে কবি ও কবিপত্নীকে করাঁচির এক মানসিক হাসপাতালে পাঠানাে হয়।এরপর ১৯৫৩ সালের মে মাসে নজরুল ও প্রমীলা দেবীকে চিকিৎসার জন্য লন্ডন পাঠানাে হয় । মে ১০ তারিখে লন্ডনের উদ্দেশ্যে হাওড়া রেলওয়ে স্টেশন ছাড়েন । লন্ডন পৌঁছানাের পর বেশ কয়েকজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক তার রােগ নির্ণয়ের চেষ্টা করেন ।

অবশেষে ১৯৭৬ সালে নজরুলের স্বাস্থ্যেরও অবনতি হতে শুরু করে । ১৯৭৬ সালের আগস্ট মাসে শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে (সাবেক পিজি হাসপাতাল) শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।

কবি তার একটি কবিতায় বলেছিলেন :
“ মসজিদেরই পাশে আমায় কবর দিয়াে ভাই , যেন গােরের থেকে মুয়াজ্জিনের আযান শুনতে পাই ”
এই কবিতায় তার অন্তিম ইচ্ছা প্রকাশ পেয়েছে । তার এই ইচ্ছার বিষয়টি বিবেচনা করে কবিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদের পাশে সমাধিস্থ করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয় এবং সে অনুযায়ী তার সমাধি রচিত হয় ।

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন

থ্রি ষ্টার গ্রুপের অনলাইন নিউজ পোর্টাল

ডিজাইনঃ নাগরিক আইটি (Nagorikit.com)